• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৯ অপরাহ্ন

১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অবরুদ্ধ বিআরটিসির সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান

নিজেস্ব প্রতিবেদন
Update : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লাকে বদলি করেছে সরকার। একই আদেশে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মীর আহমেদ তারিকুল ওমরকে বিআরটিসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
চেয়ারম্যান বদলির আদেশের পরপরই রাজধানীর মতিঝিলে বিআরটিসির প্রধান কার্যালয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন সংস্থাটির শ্রমিক-কর্মচারীদের একটি অংশ। তারা প্রধান ফটক ও পকেট গেটে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেন। এতে কার্যালয়ের ভেতরে প্রায় একশ কর্মকর্তা-কর্মচারী আটকা পড়েছেন বলে আন্দোলনকারীরা দাবি করেন।

তবে এ দাবি অস্বীকার করেছেন বিআরটিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মোস্তাকিম ভূঞা। তিনি কালবেলাকে বলেন, আন্দোলনকারীরা মূলত চেয়ারম্যানকে কেন্দ্র করে আন্দোলন করছেন। বিআরটিসিতে এটি চিরাচরিত নিয়ম। যখন এ পদে থাকা ব্যক্তির বদলি হয়, তখন শ্রমিক ইউনিয়নের ক্ষমতায় থাকা পক্ষ বিক্ষোভ করে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আটকা পড়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। যাদের অফিস শেষ হয়েছে বা বের হওয়ার প্রয়োজন, তারা বের হয়ে যাচ্ছেন।

বিআরটিসি চেয়ারম্যানের পিএস আব্দুল মুহাইমিম সজীব কালবেলাকে বলেন‘স্যার ফাইলিংয়ের কাজ করছেন। স্যার তো স্ট্যান্ড রিলিজ। যেসব পেন্ডিং কাজ আছে, আমাদের সমন্বয় সভা আবার রবিবারে আছে। তো ওইগুলোর সব কাজ গুছাচ্ছেন।

আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওগুলো কিছু না। ওগুলো তেমন কিছু না। যারা আন্দোলন করছেন, তারা আমাদেরই লোক, বাইরের কেউ না। কী বলব আর, কিছু বলার নেই। আসলে শ্রমিককেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান তো। অসুবিধা নেই, যদি সেরকম কিছু হয়ে থাকে, আমি জানাব আপনাকে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, আব্দুল লতিফ মোল্লা চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকাকালে বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। ডিপো ও কর্মকর্তাদের বদলি, দপ্তর সাজসজ্জা, বাণিজ্যমেলা এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। একই সঙ্গে বকেয়া বেতন, গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য পাওনা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানান শ্রমিকরা।

বিআরটিসি শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন খান কালবেলাকে বলেন, ‘চেয়ারম্যানের আমলে বিভিন্ন খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে। শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন সময়মতো দেওয়া হচ্ছে না। অনেকের বেতন বকেয়া রয়েছে। আমরা এসবের তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাই।

তিনি অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যানের দপ্তর সাজসজ্জার জন্য প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় হলেও ৫৫ লাখ টাকার ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায়ও প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ দেখিয়ে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মহিউদ্দিন খান আরও বলেন, বিভিন্ন ডিপোতে বদলি-বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে। চালক, কন্ডাক্টর ও কারিগরসহ শ্রমিকদের বেতন এবং বিভিন্ন ডিপোর বকেয়া পরিশোধ না করে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

তার দাবি, সাবেক চেয়ারম্যানের সময়ে মাসের প্রথম থেকে পঞ্চম তারিখের মধ্যে নিয়মিত বেতন দেওয়া হলেও বর্তমান চেয়ারম্যানের সময়ে বেতন অনিয়মিত হয়ে পড়ে। অবসর নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য পাওনাও পরিশোধ করা হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category