• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ন

মায়ের মৃত্যু, বাবার দ্বিতীয় বিয়ে দাদির স্নেহে বড় হয়ে জাতীয় পর্যায়ে নাম লেখালো রিফাত

নিজেস্ব প্রতিবেদন
Update : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

৫ বছর আগে মাকে হারিয়েছে রিফাত ইসলাম। এরপর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করলে আশ্রয় হয় দাদির বাড়িতে। দারিদ্র্য আর অভাব-অনটনের মধ্যে দাদির স্নেহে বেড়ে ওঠা এই শিশুই জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ এর দৌড় প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

রিফাত ইসলাম নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারি ইউনিয়নের কালিকাপুর লালজুম্মা মাঝাপাড়া এলাকার মজিদুল হকের ছোট ছেলে। সে উত্তর কালিকাপুর পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ বছর আগে রিফাতের মা মারা যান। এরপর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করলে সে দাদির কাছে থেকে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে। অভাব-অনটনের সংসারে থেকেও স্বপ্ন দেখা থামায়নি রিফাত। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উৎসাহ ও নিজের কঠোর পরিশ্রমে একের পর এক ধাপ পেরিয়ে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জনের পর সে জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান পায়। গত সোমবার (১৫ জুন) প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

রিফাত ঢাকা পোস্টকে বলে, পাঁচ বছর আগে আমার মা মারা গেছেন। পরে বাবা আরেকটা বিয়ে করেছেন। বিয়ের পরে বাবা ঢাকায় রিকশা চালান, আমার তেমন খোঁজখবর নেন না। আমি দাদির বাড়িতে থেকে পড়ালেখা করছি। আমার দাদির আয়ের কোনো উপায় নেই। তিনি মানুষের বাড়ি থেকে এনে আমাকে লালনপালন করেন আর আমি কোনোমতে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি ইউনিয়ন, উপজেলা— ধাপে ধাপে ঢাকায় গিয়ে জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় হয়েছি। সরকার আমাকে সহায়তা করলে আমি ভালো কিছু করতে পারব। আমি চাই সরকার আমার পরিবারকে সহায়তা করুক। ভবিষ্যতে আরও ভালো করে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে চাই। এজন্য সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।

উত্তর কালিকাপুর পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রতিমা সরকার ঢাকা পোস্টকে বলেন, রিফাত অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। অর্থনৈতিক সংকট তাকে কখনো দমিয়ে রাখতে পারেনি। তার এই অর্জনে আমরা গর্বিত।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওবায়দুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে যেন রিফাতের স্বপ্ন থেমে না যায়, সেজন্য সমাজের বিত্তবান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন। রিফাত মেধাবী শিক্ষার্থী, তাকে সহায়তা করলে সে ভবিষ্যতে ভালো কিছু করবে। রিফাতের কারণে স্কুল ও জেলার নাম উজ্জ্বল হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. মাহমুদা খাতুন ঢাকা পোস্টকে বলেন, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬-এর দৌড় প্রতিযোগিতায় রিফাত জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। তার সাফল্যে আমরা গর্বিত ও আনন্দিত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category