• মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:২২ অপরাহ্ন

ব্রাজিল ভক্তদের দুঃসংবাদ দিলেন নেইমার

ডেক্স রিপোর্ট
Update : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে মাঠে নামছে ব্রাজিল। তবে ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচে দেখা যাবে না নেইমারকে। ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) নিশ্চিত করেছে, চোট থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে তিনি দলের সঙ্গে ফিলাডেলফিয়ায় যাচ্ছেন না।

নিউ জার্সিতেই থেকে যাবেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। সেখানে আধুনিক অনুশীলন সুবিধা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থার মধ্যেই তার শেষ ধাপের রিকভারি সম্পন্ন হবে। ব্রাজিলের পরিকল্পনা স্পষ্ট—এখন ঝুঁকি নয়, লক্ষ্য নকআউট পর্ব।

মাসখানেক আগে সান্তোসের হয়ে খেলতে গিয়ে ডান পায়ের কাফে গ্রেড-টু মাংসপেশির চোট পান নেইমার। সেই চোটের কারণেই বিশ্বকাপের প্রস্তুতির বড় অংশ মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছে তাকে। তবুও অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের কথা বিবেচনা করে তাকে বিশ্বকাপ দলে রেখেছিলেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

বুধবার অবশ্য ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য কিছুটা আশার খবর ছিল। এই বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন মাঠে দেখা যায় নেইমারকে। রাফিনিয়া, ব্রুনো গিমারাইস, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস ও ফাবিনিয়োর সঙ্গে অনুশীলনে দেখা যায় নেইমারকে।

তবে সেই উপস্থিতি ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত। দলের সঙ্গে কিছুক্ষণ কাজ করার পর আবার আলাদা হয়ে ব্যক্তিগত পুনর্বাসন কার্যক্রমে ফিরে যান। এর আগের দিনও তিনি একা দৌড় ও ফিটনেস অনুশীলন করেছিলেন কোচিং স্টাফের তত্ত্বাবধানে। ব্রাজিল শিবিরের আশা, নকআউট পর্ব শুরুর আগেই পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠবেন নেইমার। সে কারণে শুধু হাইতি ম্যাচ নয়, গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও তাকে বিশ্রামে রাখা হতে পারে।

নেইমারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারও যেন গত কয়েক বছর ধরে চোটের সঙ্গে লড়াইয়ের গল্প। ২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে বাঁ হাঁটুর অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) ও মেনিস্কাস ছিঁড়ে যায় তার। এরপর থেকে আর ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামা হয়নি। চোট, পুনর্বাসন ও বিশ্রামের কারণে প্রায় ৭০০ দিন জাতীয় দলের বাইরে কাটিয়েছেন তিনি। ফলে এই বিশ্বকাপ শুধু ব্রাজিলের জন্য নয়, নেইমারের ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তনের গল্পও হয়ে উঠতে পারে।

মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ ড্র করে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। হাইতির বিপক্ষে জয় তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও কোচ আনচেলত্তি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যখন প্রতিটি ম্যাচ হয়ে উঠবে বাঁচা-মরার লড়াই, তখনই হয়তো ব্রাজিল ফিরে পেতে চায় তাদের সবচেয়ে অভিজ্ঞ অস্ত্রকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category