• মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন

ভাওয়াল উদ্যানে ভাগাড় নির্মাণে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

বিশেষ প্রতিনিধি -
Update : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬

ভাওয়াল উদ্যানে ভাগাড় নির্মাণে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও সংলগ্ন সংরক্ষিত বনভূমিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণের সব কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে উদ্যান ও আশপাশের এলাকায় বর্জ্য ফেলা থেকেও গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আবদুর রহমান–এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালত অন্তর্বর্তী আদেশের পাশাপাশি রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন সংরক্ষিত বনভূমি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে অননুমোদিতভাবে এসটিএস নির্মাণ এবং বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য ফেলা বন্ধে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা কেন আইনবহির্ভূত ও জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করা হবে না। একই সঙ্গে উদ্যান ও বনভূমির ক্ষতি সাধনের জন্য গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে কেন ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

রুলে আরও বলা হয়েছে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ও বন অধিদপ্তরকে উদ্যান ও বনভূমির সীমানা নির্ধারণ, প্রাকৃতিক বন ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল পুনরুদ্ধার, পর্যটন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা ব্যাখ্যা করতে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি-বেলা) দায়ের করা জনস্বার্থমূলক রিট (নং–৫০৯৮/২০২৬)–এর প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন। বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট রুমানা শারমিন ও তৌহিদুল আলম।

মামলার বিবাদীদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর সিটি করপোরেশন উদ্যানের মূল ফটকসংলগ্ন এলাকা ও সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে বিভিন্ন স্থান থেকে সংগৃহীত বর্জ্য ফেলে আসছে। এতে উদ্যানের পরিবেশ, প্রতিবেশব্যবস্থা, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে মহাসড়কে বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ে জনদুর্ভোগ তৈরি করছে।

পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হলেও তা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ প্রেক্ষাপটে উদ্যানের পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় বেলা আদালতের শরণাপন্ন হয়।

গত ২৩ এপ্রিল জাতীয় একটি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিষয়টি সামনে আসে, যেখানে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উদ্যানসংলগ্ন এলাকায় বর্জ্যের ভাগাড় গড়ে তোলা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা