অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বন সংরক্ষণে যুগান্তকারী অগ্রগতি।
- আপডেট সময় : ০৪:৪২:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১০৬ বার শেয়ার হয়েছে
{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বন সংরক্ষণে যুগান্তকারী অগ্রগতি।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের নেতৃত্বে নীতি, আইন ও বাস্তবায়নে নতুন দিগন্তঢাকা: অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান–এর নেতৃত্বে বন অধিদপ্তর বন, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী সংস্কার ও বাস্তবায়ন পর্ব অতিক্রম করেছে।
নীতি প্রণয়ন থেকে শুরু করে আইন সংশোধন, বনভূমি উদ্ধার, বন্যপ্রাণী সুরক্ষা এবং বননির্ভর জনগোষ্ঠীর কল্যাণ—সব ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।*আধুনিক ও সংরক্ষণমুখী জাতীয় বননীতি*দীর্ঘ তিন দশক পর জাতীয় বননীতি ১৯৯৪ হালনাগাদ করে জাতীয় বননীতি ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়। নতুন এই নীতিতে বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদ, আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য সনদ, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (SDG), জাতীয় জীববৈচিত্র্য কৌশলপত্র ও প্যারিস জলবায়ু পরিবর্তন চুক্তির অঙ্গীকারসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বন ব্যবস্থাপনাকে রাজস্বকেন্দ্রিকতা থেকে সরিয়ে সংরক্ষণমুখী, আধুনিক ও জলবায়ু সহনশীল কাঠামোতে রূপান্তরের মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।*কঠোর আইন:* বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় শূন্য সহনশীলতাবন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারির মাধ্যমে বনভূমি দখল, অনিয়ন্ত্রিত বৃক্ষ নিধন ও বনভূমির অপব্যবহারে কঠোর শাস্তির বিধান করা হয়। একই সঙ্গে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি করে বাঘ, হাতিসহ ২৪৭ প্রজাতির শিকারকে আমলযোগ্য ও জামিন অযোগ্য অপরাধ ঘোষণা করা হয়। নতুন আইনে মোট ১৫৭৪ প্রজাতির বন্যপ্রাণী আইনি সুরক্ষার আওতায় এসেছে এবং ১০০টি বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় বৃক্ষকে রক্ষিত উদ্ভিদ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনে বন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের জব্দের ক্ষমতা প্রদান করা হয়।
লাইসেন্স ছাড়া বন্যপ্রাণী পালন, ট্রফি দখল ও অবৈধ আমদানি-রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে—যা বন্যপ্রাণী পাচার রোধে বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।*সামাজিক বনায়ন ও জাতীয় পুরস্কার*সামাজিক বনায়ন বিধিমালা, ২০২৬ প্রণয়নের মাধ্যমে কেবল অবক্ষয়িত বনাঞ্চলে সামাজিক বনায়নের সুযোগ রাখা হয় এবং গাছ না কেটে অংশীজনকে সুবিধা দেওয়ার নতুন ব্যবস্থার সূচনা হয়। পাশাপাশি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার নীতিমালা ২০২৫ এবং বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার (সংশোধনী) ২০২৫ জারি করা হয়।*বন অধিদপ্তরের সাংগঠনিক সংস্কার*বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে গতি আনতে বন অধিদপ্তরের কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়। পৃথক বন্যপ্রাণী উইং গঠনসহ ৩৯৪টি নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়, যা মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।*শালবন ও পাহাড়ি বন পুনঃপ্রতিষ্ঠা*মধুপুর শালবনে ৪৫,৫৬৫ একর বনভূমির সীমানা নির্ধারণ ও গৃহ জরিপ সম্পন্ন হয়। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে ১৩৬ কোটি টাকার প্রকল্পের আওতায় ১১১১ একর শালবন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।
তিন বছর মেয়াদি পরিকল্পনায় আরও ৬৬১০ একর শালবন পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিলুপ্ত ময়ূর পুনঃপ্রবর্তনের মাধ্যমে মধুপুর জাতীয় উদ্যানে ইতোমধ্যে বংশবিস্তার শুরু হয়েছে।চুনতি অভয়ারণ্যে জবরদখল উচ্ছেদ, আকাশমনি অপসারণ ও দেশীয় প্রজাতিতে বনায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পূর্বাচলের ১৪৪ একর শালবনকে বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।*বনভূমি উদ্ধার ও দখলমুক্তকরণ*কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে দেওয়া হাজার হাজার একর বনভূমির বন্দোবস্ত বাতিল করা হয়েছে। আগস্ট ২০২৪ থেকে নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ৫ হাজার ৭ শত একর জবরদখলকৃত বনভূমি উদ্ধার করে বনায়ন করা হয়েছে।বননির্ভর জনগোষ্ঠী ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগমধুপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দায়ের করা ৮৮টি মামলা প্রত্যাহার, জাতীয় উদ্যানে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক নিষিদ্ধ এবং ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি চারা রোপণ বন্ধের সিদ্ধান্ত পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।*বন্যপ্রাণী কল্যাণ ও মানুষ–বন্যপ্রাণী দ্বন্দ্ব নিরসন*মানুষ–বন্যপ্রাণী দ্বন্দ্বে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২০২৫ সালে ২ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।
ক্যাপটিভ হাতিতে মাইক্রোচিপ স্থাপন, বিশ্ব মেছোবিড়াল দিবস উদযাপন এবং ডিজিটাল CITES Permit System চালু করা হয়েছে।*নগর সবুজায়ন ও মানবসম্পদ উন্নয়ন*ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ‘জিরো সয়েল’ কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে নগর সবুজায়নে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে।
একই সঙ্গে দীর্ঘ ২০ বছর পর ৪৫৪ জন ফরেস্টারকে ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি প্রদান করে প্রশাসনিক অচলাবস্থা নিরসন করা হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের এই উদ্যোগসমূহ বাংলাদেশের বন, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে একটি শক্ত ভিত তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যৎ পরিবেশ সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।
























