ঢাকা ১১:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য পাচার ও মাসিক মাসোহারার বরপুত্র ডেপুটি রেঞ্জার সাদেক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬ ৫৫ বার শেয়ার হয়েছে

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

বঙ্গবাণী নিউজ ২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

সুফল প্রকল্পে অতীতের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও আলোচনায় এসেছেন কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার মো. সাদেকুর রহমান। তার বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে পাহাড় কাটা, মাটি ও কাঠ পাচারে সহযোগিতা, মাসিক মাসোহারা গ্রহণ এবং বনভূমি জবরদখলে মদদ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

 

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছেন- বনরক্ষার দায়িত্বে থেকেও তিনি বনবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে- নির্দিষ্ট অঙ্কের বিনিময়ে প্রভাবশালী কাঠ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমঝোতা করে অবৈধভাবে গাছ কাটা ও পাচারের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। মাসিক চুক্তিভিত্তিক অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বন উজাড়ের ঘটনা ঘটছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

 

ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ এলাকায় সম্প্রতি কয়েকটি পাহাড় কাটার ঘটনা নিয়ে পরিবেশবাদী ও স্থানীয় সচেতন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে- সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে প্রশাসনিক ‘সহনশীলতা’ দেখানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বনভূমি জবরদখল ও বসতঘর নির্মাণেও নীরব ভূমিকা রাখার পাহাড়সম অভিযোগ।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে- চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে দায়িত্বে থাকাকালীন কুমিরা রেঞ্জে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে বাস্তবায়িত ‘সুফল’ প্রকল্পে প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বাগান সৃজন কার্যক্রমে অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।

 

সে সময় সাদেকুর রহমান কুমিরা রেঞ্জে দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ ওঠে, প্রকল্পের বরাদ্দ অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না করে আত্মসাতের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষতি সাধন করা হয়েছে।

 

এসব অভিযোগের বিষয় বর্ণনা দিয়ে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগও দায়ের করেছেন এক গণমাধ্যমকর্মী।

 

কিন্তু এসব অভিযোগ দৃশ্যমান হলেও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং পরবর্তীতে তাকে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জে পদায়ন করা হয়। এরপর থেকে অদৃশ্য শক্তিতে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কিছু বন কর্মকর্তা জানিয়েছেন- কক্সবাজার উত্তর ও দক্ষিণ বন বিভাগের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অর্থের একটি বড়ো অংশ চট্টগ্রাম অঞ্চলের সিএফ ড. মোল্যা রেজাউল করিমের নামে সংগ্রহ করেন সাদেকুর রহমান।

 

অভিযোগ রয়েছে- ফরেস্টার ও ডেপুটি রেঞ্জার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন পদায়ন ও নানা দুর্নীতির এ অর্থ লেনদেনে তিনিই ভূমিকা রাখেন।

 

সমগ্র বিষয় নিয়ে সাদেকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বক্তব্য না দিয়ে দেখা করে কথা বলে, দু-দিন সময় নেন। পরে একাধিক ফোন ও বার্তা দিলেও তিনি কোন উত্তর দেন নাই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য পাচার ও মাসিক মাসোহারার বরপুত্র ডেপুটি রেঞ্জার সাদেক

আপডেট সময় : ০৯:৫৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

 

সুফল প্রকল্পে অতীতের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও আলোচনায় এসেছেন কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার মো. সাদেকুর রহমান। তার বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে পাহাড় কাটা, মাটি ও কাঠ পাচারে সহযোগিতা, মাসিক মাসোহারা গ্রহণ এবং বনভূমি জবরদখলে মদদ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

 

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছেন- বনরক্ষার দায়িত্বে থেকেও তিনি বনবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে- নির্দিষ্ট অঙ্কের বিনিময়ে প্রভাবশালী কাঠ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমঝোতা করে অবৈধভাবে গাছ কাটা ও পাচারের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। মাসিক চুক্তিভিত্তিক অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বন উজাড়ের ঘটনা ঘটছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

 

ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ এলাকায় সম্প্রতি কয়েকটি পাহাড় কাটার ঘটনা নিয়ে পরিবেশবাদী ও স্থানীয় সচেতন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে- সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে প্রশাসনিক ‘সহনশীলতা’ দেখানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বনভূমি জবরদখল ও বসতঘর নির্মাণেও নীরব ভূমিকা রাখার পাহাড়সম অভিযোগ।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে- চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে দায়িত্বে থাকাকালীন কুমিরা রেঞ্জে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে বাস্তবায়িত ‘সুফল’ প্রকল্পে প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বাগান সৃজন কার্যক্রমে অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।

 

সে সময় সাদেকুর রহমান কুমিরা রেঞ্জে দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ ওঠে, প্রকল্পের বরাদ্দ অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না করে আত্মসাতের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষতি সাধন করা হয়েছে।

 

এসব অভিযোগের বিষয় বর্ণনা দিয়ে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগও দায়ের করেছেন এক গণমাধ্যমকর্মী।

 

কিন্তু এসব অভিযোগ দৃশ্যমান হলেও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং পরবর্তীতে তাকে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জে পদায়ন করা হয়। এরপর থেকে অদৃশ্য শক্তিতে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কিছু বন কর্মকর্তা জানিয়েছেন- কক্সবাজার উত্তর ও দক্ষিণ বন বিভাগের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অর্থের একটি বড়ো অংশ চট্টগ্রাম অঞ্চলের সিএফ ড. মোল্যা রেজাউল করিমের নামে সংগ্রহ করেন সাদেকুর রহমান।

 

অভিযোগ রয়েছে- ফরেস্টার ও ডেপুটি রেঞ্জার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন পদায়ন ও নানা দুর্নীতির এ অর্থ লেনদেনে তিনিই ভূমিকা রাখেন।

 

সমগ্র বিষয় নিয়ে সাদেকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বক্তব্য না দিয়ে দেখা করে কথা বলে, দু-দিন সময় নেন। পরে একাধিক ফোন ও বার্তা দিলেও তিনি কোন উত্তর দেন নাই।