• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪১ অপরাহ্ন

৪১৮ জনের পদোন্নতি নিয়ে শতকোটি টাকার বানিজ‍্যে পেছনে লুকিয়ে থাকে দর প্রকাশিত প্রতিবেদন ‘মনগড়া, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’: প্রতিবাদ সংশ্লিষ্টদের

Reporter Name
Update : শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

৪১৮ জনের পদোন্নতি নিয়ে শতকোটি টাকার বানিজ‍্যে পেছনে লুকিয়ে থাকে দর প্রকাশিত প্রতিবেদন ‘মনগড়া, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’: প্রতিবাদ সংশ্লিষ্টদের

বন অধিদপ্তরের ৪১৮ জন ডেপুটি রেঞ্জারের পদোন্নতি নিয়ে ‘শত শত কোটি টাকার বাণিজ্য’, অনিয়ম, সিনিয়রিটি লঙ্ঘন ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মনগড়া, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ।

সম্প্রতি অর্থনীতির কাগজ এবং সময়ের কণ্ঠস্বর অনলাইন পোর্টালে বন অধিদপ্তরের ৪১৮ জন ডেপুটি রেঞ্জারের পদোন্নতি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগসংবলিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিশেষ করে সময়ের কণ্ঠস্বরে এবং অর্থনীতি কাগজ ৩রা সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে ‘কয়েকশো কোটি টাকার বাণিজ্য’-এর মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে। যেমনটি রেঞ্জ স্টেশন পোষ্টিংয়ের কথালেখা হয়েছে এবং গ্রেডেশন, জ্যেষ্ঠতা, মামলা, আদালতের আদেশ এবং পদোন্নতি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে প্রশাসনিক ও বিধিবদ্ধ পদোন্নতি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপকে মিথ‍্যেভাবে উপস্থাপন করে এমন একটি ধারণা তৈরি করা হয়েছে, যেন ৪১৮ জনের পদোন্নতি কোনো ব্যক্তি বা একটি কথিত সিন্ডিকেটের ইচ্ছায় সম্পন্ন হচ্ছে। বাস্তবে বিষয়টি চলতি বিধিবিধমেনেই সম্পন্ন করা করা হয়েছে।

ডেপুটি রেঞ্জারদের পদোন্নতির সুপারিশ কোনো একক ব্যক্তি বা কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে করা হয়নি। Departmental Promotion Committee (DPC)-এর মাধ্যমে সরকারি বিধিমালা, চাকরির রেকর্ড, জ্যেষ্ঠতা, যোগ্যতা, চাকরির মেয়াদ, বিভাগীয় মামলা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই-বাছাই করেই প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একটি বহুপক্ষীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক কমিটির কার্যক্রমকে কোনো ব্যক্তির একক সিদ্ধান্ত কিংবা ‘সিন্ডিকেটের বাণিজ্য’ হিসেবে চিত্রিত করা বাস্তব প্রশাসনিক সুন্দর শৃঙ্খল কাঠামোকে বিকৃত করার শামিল হিসেবে খবর মিথ‍্যা গল্প সাজানো হয়েছে খবরে।

গ্রেডেশন তালিকা কোনো রাতারাতি তৈরি করা তালিকা নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়োগের তারিখ, চাকরি নিয়মিতকরণের তারিখ, জ্যেষ্ঠতা, যোগ্যতা এবং অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করেই এ তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এমনকি প্রকাশিত প্রতিবেদনেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে গ্রেডেশন তালিকা প্রকাশের পর কর্মকর্তাদের আপত্তি জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রায় ৬৪টি আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের দাবির প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। যেখানে আপত্তি জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে, আপত্তি গ্রহণ ও পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা হয়েছে, সেখানে পুরো প্রক্রিয়াকে ‘গোপন’ বা ‘একতরফা’ হিসেবে উপস্থাপনের যৌক্তিক ভিত্তি কোথায় তা অবগতের গতি কল্পনা ছাড়া কিছুই না।

প্রতিবেদনগুলোতে কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা, বিভাগীয় অভিযোগ বা পূর্বের প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে তাদের পদোন্নতির সুপারিশকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা বা অভিযোগ থাকা এবং তার অপরাধ আইনগতভাবে প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। একইভাবে মামলা চলমান থাকলেই একজন কর্মকর্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদোন্নতির জন্য অযোগ্য হয়ে যান এমন সিদ্ধান্তও বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়ার বিকল্প হতে পারে না। যোগ্যতা যাচাই করে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট মামলা বা অভিযোগের তথ্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সামনে উপস্থাপন করা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ারই অংশ। চূড়ান্ত পদোন্নতির আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।সুতরাং কোনো প্রাথমিক তালিকা বা সুপারিশে কারও নাম থাকা মানেই তিনি চূড়ান্তভাবে পদোন্নতি পেয়ে গেছেন এমন উপস্থাপনও বিভ্রান্তিকর। কেও যদি বিভাগীয় মামলায় বেকসুর খালাস কিংবা আপিলে শাস্তি রত বা রহিত হয় তার চাকরি ধারাবাহিকতা বজায়ে থাকে। প্রতিবেদক হয়তোবা বিষয়টি অবগত নয়।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে আদালতের বিভিন্ন মামলা ও আদেশের প্রসঙ্গ এনে পদোন্নতি কার্যক্রমকে আদালতের নির্দেশ অমান্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।বিচারাধীন বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট মামলার বর্তমান অবস্থা, আদালতের পরবর্তী আদেশ এবং প্রশাসনিক নির্দেশনা পর্যালোচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাই কোনো আদালতের একটি আদেশ বা মামলার বিচ্ছিন্ন অংশ তুলে ধরে পুরো পদোন্নতি কার্যক্রমকে ‘আদালতের নির্দেশ অমান্য’ হিসেবে চিত্রিত করা হলে সেটি বাস্তব পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন হবে না।আদালতের আদেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে হলে সংশ্লিষ্ট মামলার পূর্ণাঙ্গ আদেশ, পরবর্তী আদেশ এবং বর্তমানে কোন স্থগিত আদেশ নাই।

প্রতিবেদনের সবচেয়ে গুরুতর এবং মিথ্যে দাবি হলো “৪১৮ জনের পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে ‘শত শত কোটি টাকার বাণিজ্য’” হয়েছে। জনমনে প্রশ্ন তুলেছেন, এই শত শত কোটি টাকা কার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে? কার কাছে গেছে? কবে, কোথায় এবং কীভাবে লেনদেন হয়েছে? এর কোনো ব্যাংক রেকর্ড আছে কি? কোনো লিখিত নথি আছে কি? কোনো প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য আছে কি? কোনো তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন আছে কি?যদি এমন বিপুল অঙ্কের অর্থের লেনদেন সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে তার অন্তত কিছু নির্ভরযোগ্য ও যাচাইযোগ্য প্রমাণ থাকার কথা। কিন্তু প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট আর্থিক নথি বা তদন্তে প্রমাণিত তথ্য উপস্থাপন না করে ‘শত শত কোটি টাকার বাণিজ্য’কে শিরোনাম ও বর্ণনায় প্রতিষ্ঠিত সত্যের মতো উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ না থাকলে এমন ভয়াবহ আর্থিক দুর্নীতির অঙ্ক নির্ধারণ করা হলো কীভাবে? এই মিথ্যে অভিযোগটি কাল্পনিক।

প্রতিবেদনে বিভিন্ন পদে কথিত ‘রেট’ নির্ধারণের যে দাবি করা হয়েছে, সেটিও কোনো যাচাইকৃত সরকারি নথি, আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড, তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা আদালতে প্রমাণিত তথ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন। কারও মুখের কথা, অজ্ঞাত সূত্রের দাবি কিংবা যাচাইহীন তথ্যের ভিত্তিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত গুরুতর অন‍্যায় ।দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তদন্ত হোক, প্রমাণ থাকলে প্রকাশ করা হোক—কিন্তু প্রমাণের আগে কাউকে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা, তদন্ত বা অভিযোগের তথ্য এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, যাতে পাঠকের কাছে তারা ইতোমধ্যেই অপরাধী হিসেবে প্রতীয়মান হন।কিন্তু একটি মামলা দায়ের হওয়া, তদন্ত চলা এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া—এই তিনটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। আইনের মৌলিক নীতি অনুযায়ী, আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে অভিযোগ ও প্রমাণিত সত্যের মধ্যে এই মৌলিক পার্থক্য বজায় রাখা সাংবাদিকতার দায়িত্বের অংশ।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, ৪১৮ জনের পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় যদি সত্যিই কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ লেনদেন, সিনিয়রিটি লঙ্ঘন বা আইনবহির্ভূত কার্যক্রমের প্রমাণ থাকে, তাহলে তা সুনির্দিষ্ট নথি, প্রমাণ ও তথ্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হোক। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু অনুমান, গুজব, অজ্ঞাত সূত্র কিংবা অপ্রমাণিত অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে ‘শত শত কোটি টাকার বাণিজ্য’-এর মতো ভয়াবহ অভিযোগ ছড়িয়ে একটি চলমান বিধিবদ্ধ প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা কোনোভাবেই দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়।

অর্থনীতির কাগজ ও সময়ের কণ্ঠস্বর-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর তথ‍্য দাবী গুলো পদোন্নতি কমিটির কার্যক্রম, গ্রেডেশন তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া, আপত্তি নিষ্পত্তি, মামলা ও আদালতের আদেশের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট এবং কথিত আর্থিক লেনদেনের দাবির ভিত্তি পাঠকের সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা উচিত। প্রতিবেদনে কোনো তথ্য ভুল, অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে তা সংশোধন করে সংশোধনী প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে।

বন অধিদপ্তরের ৪১৮ জন ডেপুটি রেঞ্জারের পদোন্নতি কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয় এবং এটি কোনো কথিত ‘সিন্ডিকেটের বাণিজ্য’ও নয়। এটি বিধিমালা, জ্যেষ্ঠতা, যোগ্যতা, চাকরির রেকর্ড, বিভাগীয় মামলা এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে পরিচালিত একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া।তাই পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া এই প্রক্রিয়াকে ‘শত শত কোটি টাকার বাণিজ্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করা শুধু বিভ্রান্তিকর নয়; সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি বন অধিদপ্তর এবং এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত মর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করারও শামিল।

রেঞ্জ,স্টেশন,পদোন্নতির রুটিন বানিজ‍্য, তলিকার ভিতর বৈষম্য, আদালতের আদেশ উপেক্ষা, তালিকায় যাদের নাম তাদের নামে অপরাধ এবং দুদকের নথিতে যা আছে এমস্ত খবরগুলী সম্পুর্নভাবে মিথ্যা ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ‍্য প্রনোদীতভাবে খবর, বিধিবিধানের আলোকে চলমান পদোন্নতি কার্যক্রমকে বন্ধ করার জন‍্যে একটি স্বার্থন্বেষী মহলের প্ররোচনায় উক্ত খবর প্রকাশ করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category