• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৯ অপরাহ্ন

বন বিভাগে মাঠ পর্যায় ও চার দেয়ালে চার ভাগের স্বার্থের দ্বন্দ্ব; অপপ্রচারের অভিযোগ

Reporter Name
Update : বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬

বন বিভাগে মাঠ পর্যায় ও চার দেয়ালে চার ভাগের স্বার্থের দ্বন্দ্ব; অপপ্রচারের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বন অধিদপ্তর মাঠ পর্যায়ে এবং চার দেয়ালে কার্যত বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত। এই বাস্তবতাকে পুঁজি করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল এখনো অপপ্রচার ও প্রপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর মাধ্যমে শুধু বিভ্রান্তিই ছড়ানো হচ্ছে না, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দপ্তরের মূল্যবান অনেক অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। বর্তমান প্রধান বন সংরক্ষকের ইতিবাচক কাজগুলোকে নিজেদের অবৈধ স্বার্থের কারণে স্বীকার না করে, একটি চক্র অস্থিরতা তৈরি করতে গোপনে গোপনে মিথ্যা অভিযোগের প্রচারণা চালাচ্ছে। এর ফলে বর্তমান সরকারের ভালো কাজগুলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বন বিভাগের মাঠ পর্যায়ে মূলত চারটি ভাগ বিদ্যমান: প্রথমত: ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি পাওয়া কর্মচারীরা, যারা গ্রেডেশন তালিকায় পেছনে রয়েছেন। দ্বিতীয়ত: ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি না পাওয়া কর্মচারীগণ। তৃতীয়ত: ডেপুটি রেঞ্জার পদ থেকে ফরেস্ট রেঞ্জার পদে পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা জনবল। চতুর্থত: বিভিন্ন সময়ে বিভাগীয় মামলায় শাস্তি পাওয়া কিছু কর্মচারী, যারা নির্দিষ্ট তারিখে ভূতাপেক্ষভাবে পদোন্নতি পাননি।

অভিযোগ রয়েছে, এই চার ভাগে বিভক্ত জনবলের কয়েকজন মিলে বিভিন্ন মিথ্যা খবর ও মনগড়া অভিযোগ বানিয়ে প্রচারণা ও প্রতারণা চালাচ্ছেন। এদেরকে অবৈধভাবে মদদ দিচ্ছেন ২২তম বিসিএসের কয়েকজন বন কর্মকর্তা।

এই চার পক্ষের ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতা ও জটিলতা বর্তমান বন অধিদপ্তরের পদোন্নতি কমিটির সদস্যদের দীর্ঘদিন ধরেই বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। অথচ বিষয়টি পরিষ্কার—যারা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পাননি, তাদের ক্ষেত্রে বিভাগীয় মামলার শাস্তি ছিল। অন্যদিকে, যারা ভূতাপেক্ষভাবে পদোন্নতি পেয়েছেন, তাদের সার্ভিস বুক ভালো ছিল। বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী কর্মচারীদের সার্ভিস সংক্রান্ত প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে, যা আইন ও বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তিযোগ্য। এই বাস্তবতা আড়াল করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো অনভিপ্রেত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বরত কর্মকর্তাগণ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অপপ্রচার ও প্রপাগান্ডার মাধ্যমে নয়, বরং আইন, নিয়ম, চাকরি বিধিবিধান ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। পদোন্নতি প্রক্রিয়া শুরু হওয়াই প্রমাণ করে যে, বর্তমান নেতৃত্ব বন বিভাগের ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বন বিভাগের ইতিহাসে পদোন্নতি সংকট নিরসনে এই উদ্যোগকে একটি ইতিবাচক, প্রশংসনীয় ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বন পরিবারের অধিকাংশ মাঠ পর্যায়ের সদস্য।

মাঠ পর্যায় থেকে আরও জানা যায়, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি মহলের দুই-একজন এই বিভক্তির সাথে সরাসরি জড়িত। তারা দু-চারজন মিথ্যে অভিযোগকারীরা(লিটিগেটর) অর্থ দিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের মতো আশ্রয় দিচ্ছেন, যাতে নিজেদের দৃশ্যমান অবৈধ কাজকর্ম ঢাকা দেওয়া যায়। তথ্যে জানা যায়, আগামী দিনে প্রধান বন সংরক্ষক হওয়ার লক্ষে তারা মিথ্যা, বানোয়াট ও কু-কৌশলপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি আকারে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

মাঠ পর্যায়ের এবং চার দেয়ালের এই চারমুখী বিভক্তিতে প্রধান বন সংরক্ষক এবং বন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। এই বিভক্তি তৈরি করে কয়েকজন কর্মকর্তা নিজেদের অবৈধ স্বার্থ হাসিল করতে চাচ্ছেন। বিভিন্ন আঞ্চলিক পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তার গ্রুপিং এখন সীমার বাইরে চলে গেছে। তবে মাঠ পর্যায়ের কর্মঠ কর্মচারীরা মনে করেন, যেখানে বর্তমান বন প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় আধুনিক এবং সৎ ও ন্যায়পরায়ণতার প্রশ্নে আপসহীন, সেখানে এই স্বার্থান্বেষী মহল কেবল নিজেদের স্বার্থের জন‍্যে যা খুশি তাই করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category