ঢাকা ০৯:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দ্বৈত বৈষম্যের অবসান চান সাঁওতাল নারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ১১:৪৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬ ৩১ বার শেয়ার হয়েছে
বঙ্গবাণী নিউজ ২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের কাটাবাড়ী ইউনিয়নে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয়েছে। এতে অংশ নেন সাঁওতাল নারীরা। এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়।

 

আলোচনাসভায় বক্তারা বলেন, আদিবাসী নারীরা একদিকে নারী হিসেবে, অন্যদিকে আদিবাসী পরিচয়ের কারণে সমাজে দ্বৈত বৈষম্যের শিকার।

 

এই বৈষম্য দূর করে তাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

রবিবার (৮ মার্চ) বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘অবলম্বন-এর উদ্যোগে গাইবান্ধার কাটাবাড়ী ইউনিয়নে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

দিবসটি উপলক্ষে কাটাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

 

এতে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক অংশ নেন সাঁওতাল নারীরা। তাদের হাতে ছিল বিভিন্ন দাবি সংবলিত ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড। শোভাযাত্রায় স্থানীয় সাঁওতাল সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ ছাড়াও সব সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

শোভাযাত্রা শেষে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে সাঁওতাল ও বাঙালিদের অংশগ্রহণে মিলনমেলার পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

 

পরে ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। পল্লবী মুর্মুর সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় বক্তব্য দেন অবলম্বনের নির্বাহী পরিচালক প্রবীর চক্রবর্তী, কাটাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম, কাটাবাড়ী নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌড় চন্দ্র পাহাড়ী, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাঞ্জুয়ারা বেগম, সাহানা বেগম প্রমুখ।

 

এছাড়া আদিবাসী যুবনেত্রী সোনালী মার্ডি, আলবীনা মুর্মু, সাধনা রানী, সরস্বতী পাহাড়ী, রুমী পাহাড়ী, তারামনী টপ্য, শিল্পী ওরাও, আবিনা টপ্য, মেরিনা মুর্মু ও জ্যোথি মুর্মুসহ স্থানীয় নারীনেত্রীরা বক্তব্য দেন।

 

বক্তারা বলেন, বিভিন্ন সময় আদিবাসী নারীরা সহিংসতা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি তাদের অনেককে নিজস্ব ভ‚মি থেকেও উচ্ছেদ হতে হচ্ছে।

কৃষিসহ শ্রমবাজারেও আদিবাসী ও বাঙালি নারী শ্রমিকরা পুরুষদের তুলনায় কম মজুরি পান, যা একটি দীর্ঘদিনের বৈষম্য।

বক্তারা আরো বলেন, মানবাধিকার সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। জাতি, ধর্ম, বর্ণ কিংবা লিঙ্গভেদে বৈষম্য করা মানবাধিকার পরিপন্থী। এই বৈষম্য দূর করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তারা আদিবাসী নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও ভূমির অধিকার নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

দ্বৈত বৈষম্যের অবসান চান সাঁওতাল নারীরা

আপডেট সময় : ১১:৪৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের কাটাবাড়ী ইউনিয়নে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয়েছে। এতে অংশ নেন সাঁওতাল নারীরা। এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়।

 

আলোচনাসভায় বক্তারা বলেন, আদিবাসী নারীরা একদিকে নারী হিসেবে, অন্যদিকে আদিবাসী পরিচয়ের কারণে সমাজে দ্বৈত বৈষম্যের শিকার।

 

এই বৈষম্য দূর করে তাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

রবিবার (৮ মার্চ) বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘অবলম্বন-এর উদ্যোগে গাইবান্ধার কাটাবাড়ী ইউনিয়নে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

দিবসটি উপলক্ষে কাটাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

 

এতে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক অংশ নেন সাঁওতাল নারীরা। তাদের হাতে ছিল বিভিন্ন দাবি সংবলিত ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড। শোভাযাত্রায় স্থানীয় সাঁওতাল সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ ছাড়াও সব সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

শোভাযাত্রা শেষে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে সাঁওতাল ও বাঙালিদের অংশগ্রহণে মিলনমেলার পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

 

পরে ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। পল্লবী মুর্মুর সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় বক্তব্য দেন অবলম্বনের নির্বাহী পরিচালক প্রবীর চক্রবর্তী, কাটাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম, কাটাবাড়ী নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌড় চন্দ্র পাহাড়ী, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাঞ্জুয়ারা বেগম, সাহানা বেগম প্রমুখ।

 

এছাড়া আদিবাসী যুবনেত্রী সোনালী মার্ডি, আলবীনা মুর্মু, সাধনা রানী, সরস্বতী পাহাড়ী, রুমী পাহাড়ী, তারামনী টপ্য, শিল্পী ওরাও, আবিনা টপ্য, মেরিনা মুর্মু ও জ্যোথি মুর্মুসহ স্থানীয় নারীনেত্রীরা বক্তব্য দেন।

 

বক্তারা বলেন, বিভিন্ন সময় আদিবাসী নারীরা সহিংসতা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি তাদের অনেককে নিজস্ব ভ‚মি থেকেও উচ্ছেদ হতে হচ্ছে।

কৃষিসহ শ্রমবাজারেও আদিবাসী ও বাঙালি নারী শ্রমিকরা পুরুষদের তুলনায় কম মজুরি পান, যা একটি দীর্ঘদিনের বৈষম্য।

বক্তারা আরো বলেন, মানবাধিকার সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। জাতি, ধর্ম, বর্ণ কিংবা লিঙ্গভেদে বৈষম্য করা মানবাধিকার পরিপন্থী। এই বৈষম্য দূর করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তারা আদিবাসী নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও ভূমির অধিকার নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানান।