ঢাকা ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়ালো

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০২:১৩:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬ ২২ বার শেয়ার হয়েছে
বঙ্গবাণী নিউজ ২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধে ভয়াবহ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। সোমবার (৯ মার্চ) এশিয়ার বাজারে লেনদেনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।

 

সোমবার (৯ মার্চ) সকালে এশিয়ার বাজারে কেনাবেচা শুরু হওয়ার পরই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

 

মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া এবং একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী পণ্য পরিবহন বন্ধ হওয়ার বিশ্ববাজারে অস্থির হয়ে উঠেছে তেলের দাম।।

 

সোমবার (৯ মার্চ) স্থানীয় সময় সকালে, আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার প্রাইস ব্যারেল প্রতি ১৮.৩৫ ডলার বা ১৯.৮ শতাংশ বেড়ে ১১১.০৪ ডলারে পৌঁছায়।

 

এদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১৬.৫০ ডলার, ১৮.২ শতাংশ বেড়ে, ১০৭.৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

 

বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, তেলের দাম, চলতি সপ্তাহে, ‘ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার’ ছাড়িয়ে যাবে। যেহেতু এশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোয় সপ্তাহ শুরু হয় সোমবার থেকে, সেই হিসেবে সপ্তাহের প্রথম দিনই তেলের দাম বেড়েছে।

 

জেপি মরগানের প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্রুস কাসম্যান বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি এখনো মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। আর সেগুলো মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়েই যায়।’

 

ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। তবে, সংঘাত দ্রুত কমে এলে, তেলের দামও কিছুটা কমতে পারে। নাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।

 

এদিকে, অয়েল প্রাইস ডট কমের তথ্যানুসারে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলারে উঠেছে।

 

যুদ্ধের জেরে, ইরাক ও কুয়েত তেল উৎপাদন কমাতে শুরু করেছে। এদিকে, কাতার ইতিমধ্যেই তাদের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।

 

ইরাকের বসরা অয়েল কোম্পানির এক কর্মকর্তা বলছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের তেলের স্টোরেজগুলো একদম খালি নেই। তাই, বাধ্য হয়েই তারা উৎপাদন ৭০ শতাংশ কমিয়ে, মাত্র ‘১ দশমিক ৩ মিলিয়ন ব্যারেলে’ নামিয়ে এনেছে।

 

যুদ্ধ চলতে থাকায় গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ওই পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা জাহাজে ইসলামিক রেভলিউশনারী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হামলা চালাচ্ছে । সব মিনিয়ে, যুদ্ধ চলতে থাকলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়ালো

আপডেট সময় : ০২:১৩:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধে ভয়াবহ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। সোমবার (৯ মার্চ) এশিয়ার বাজারে লেনদেনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।

 

সোমবার (৯ মার্চ) সকালে এশিয়ার বাজারে কেনাবেচা শুরু হওয়ার পরই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

 

মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া এবং একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী পণ্য পরিবহন বন্ধ হওয়ার বিশ্ববাজারে অস্থির হয়ে উঠেছে তেলের দাম।।

 

সোমবার (৯ মার্চ) স্থানীয় সময় সকালে, আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার প্রাইস ব্যারেল প্রতি ১৮.৩৫ ডলার বা ১৯.৮ শতাংশ বেড়ে ১১১.০৪ ডলারে পৌঁছায়।

 

এদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১৬.৫০ ডলার, ১৮.২ শতাংশ বেড়ে, ১০৭.৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

 

বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, তেলের দাম, চলতি সপ্তাহে, ‘ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার’ ছাড়িয়ে যাবে। যেহেতু এশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোয় সপ্তাহ শুরু হয় সোমবার থেকে, সেই হিসেবে সপ্তাহের প্রথম দিনই তেলের দাম বেড়েছে।

 

জেপি মরগানের প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্রুস কাসম্যান বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি এখনো মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। আর সেগুলো মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়েই যায়।’

 

ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। তবে, সংঘাত দ্রুত কমে এলে, তেলের দামও কিছুটা কমতে পারে। নাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।

 

এদিকে, অয়েল প্রাইস ডট কমের তথ্যানুসারে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলারে উঠেছে।

 

যুদ্ধের জেরে, ইরাক ও কুয়েত তেল উৎপাদন কমাতে শুরু করেছে। এদিকে, কাতার ইতিমধ্যেই তাদের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।

 

ইরাকের বসরা অয়েল কোম্পানির এক কর্মকর্তা বলছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের তেলের স্টোরেজগুলো একদম খালি নেই। তাই, বাধ্য হয়েই তারা উৎপাদন ৭০ শতাংশ কমিয়ে, মাত্র ‘১ দশমিক ৩ মিলিয়ন ব্যারেলে’ নামিয়ে এনেছে।

 

যুদ্ধ চলতে থাকায় গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ওই পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা জাহাজে ইসলামিক রেভলিউশনারী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হামলা চালাচ্ছে । সব মিনিয়ে, যুদ্ধ চলতে থাকলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।