ঢাকা ০৬:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুতুবদিয়া সাবরেজিস্ট্রি অফিসে লাখে ৩ হাজার টাকা ঘুস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৩:০৭:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ ২৪ বার শেয়ার হয়েছে
বঙ্গবাণী নিউজ ২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া সাবরেজিস্ট্রি অফিসে চলছে বেপরোয়া ঘুস বাণিজ্য। ভূমির দলিল মূল্য অনুযায়ী প্রতি লাখে তিন হাজার টাকা ঘুস দিতে হয় কুতুবদিয়া সাবরেজিস্ট্রি অফিসে। সাবরেজিস্ট্রার পূর্বাশা বড়ুয়া, অফিস সহকারী শমরেশ কান্তি দে এবং স্থানীয় দলিল লেখক মিলে ঘুস বাণিজ্যের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট করে দলিলগ্রহীতার কাছ থেকে এভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। জমি রেজিস্ট্রি শেষ হলে লাখ হিসাবে ঘুসের টাকা প্রধান সহকারী শমরেশ কান্তির হাতে দিয়ে আসতে হয় দলিল লেখকদের। নিয়ম না থাকলেও এ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে হচ্ছে তাদের, অন্যথায় আটকে দেওয়া হয় দলিল সম্পাদনার কাজ।

 

জানা গেছে, দলিল সম্পাদনা করতে সরকারি একটি নিয়ম রয়েছে। নিয়ম কী সেটিও কুতুবদিয়ার মানুষ জানেন না। কারণ কুতুবদিয়া সাবরেজিস্ট্রি অফিসে নিজস্ব নিয়ম করে দিয়েছেন, যেটি সরকারি নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সরকারি নিয়মে একটি দলিল সম্পাদনা করতে দলিল মূল্যের প্রতি লাখে সাড়ে ৭ হাজার টাকা পে-অর্ডার জমা দিতে হয়। কিন্তু দলিল লেখকরা কুতুবদিয়া সাবরেজিস্ট্রি অফিসের ঘুসের টাকাসহ দলিল গ্রহীতাদের কাছ থেকে প্রতি লাখে ১১ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন।

 

পরিচয় গোপন রেখে কুতুবদিয়ার দলিল লেখক আবছার প্রকাশ বড় আবছারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুতুবদিয়ার লেমশিখালী মৌজায় ২০ শতক জমি কবলা করতে হলে মৌজা মূল্য হিসাবে দলিলে কত টাকা লিখতে হবে এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, সাড়ে ৪ লাখ টাকা, লাখে কত টাকা খরচ দিতে হবে? জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, যদি দলিলের মূল্য ১০ লাখের উপরে যায়, সেক্ষেত্রে প্রতি লাখে সাড়ে ১০ হাজার থেকে শুরু করে, ১১ হাজার, সাড়ে ১১ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। তিনি আরও বলেন, যদি দলিলের মূল্য ১০ লাখের কম হয় তখন প্রতি লাখে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হবে। সেই হিসাবে ২০ শতক জায়গা কবলা করতে ৫৫-৬০ হাজার টাকা খরচ হবে বলে জানান তিনি। আবার দলিল যদি ২ বা ৩ লাখ টাকা মূল্যের হয় সেক্ষেত্রে প্রতি লাখে ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ হবে। আরেক দলিল লেখক তার নামও আবছার প্রকাশ ছোট আবছার, তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দলিল যদি করতে চান আপনার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে লাখে দুই হাজার টাকা করে দিয়েন, তা-ও অফিস সহকারী শমরেশের সঙ্গে কথা বলতে হবে। আমাদের কাছ থেকে প্রতি দলিলে সরকারি পে-অর্ডারের বাইরে প্রতি লাখে তিন হাজার টাকা করে দিতে হয় অফিসে।

 

সেলিম নামের এক দলিল গ্রহীতা বলেন, আমি ৫ জন দাতার কাছ থেকে ৮ শতক জমি রেজিস্ট্রি নিয়েছি। দলিলে জমির মৌজা মূল্য অনুযায়ী এক লাখ ৭৯ হাজার টাকা লেখা হয়েছে। এতে আমার কাছ থেকে ৩১ হাজার টাকা খরচ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে অফিস সহকারী শমরেশ কান্তি দে যুগান্তরকে বলেন, সরকারি খরচের বাইরে অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়া হয় না, সরকারি নিয়ম মেনে জমি রেজিস্ট্রি করা হয়। এ ব্যাপার জানতে সাবরেজিস্ট্রার পূর্বাশা বড়ুয়ার মোবাইলে একাধিকবার কল দেওয়া হয়েছে। তিনি কল না ধরায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কুতুবদিয়া সাবরেজিস্ট্রি অফিসে লাখে ৩ হাজার টাকা ঘুস

আপডেট সময় : ০৩:০৭:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া সাবরেজিস্ট্রি অফিসে চলছে বেপরোয়া ঘুস বাণিজ্য। ভূমির দলিল মূল্য অনুযায়ী প্রতি লাখে তিন হাজার টাকা ঘুস দিতে হয় কুতুবদিয়া সাবরেজিস্ট্রি অফিসে। সাবরেজিস্ট্রার পূর্বাশা বড়ুয়া, অফিস সহকারী শমরেশ কান্তি দে এবং স্থানীয় দলিল লেখক মিলে ঘুস বাণিজ্যের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট করে দলিলগ্রহীতার কাছ থেকে এভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। জমি রেজিস্ট্রি শেষ হলে লাখ হিসাবে ঘুসের টাকা প্রধান সহকারী শমরেশ কান্তির হাতে দিয়ে আসতে হয় দলিল লেখকদের। নিয়ম না থাকলেও এ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে হচ্ছে তাদের, অন্যথায় আটকে দেওয়া হয় দলিল সম্পাদনার কাজ।

 

জানা গেছে, দলিল সম্পাদনা করতে সরকারি একটি নিয়ম রয়েছে। নিয়ম কী সেটিও কুতুবদিয়ার মানুষ জানেন না। কারণ কুতুবদিয়া সাবরেজিস্ট্রি অফিসে নিজস্ব নিয়ম করে দিয়েছেন, যেটি সরকারি নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সরকারি নিয়মে একটি দলিল সম্পাদনা করতে দলিল মূল্যের প্রতি লাখে সাড়ে ৭ হাজার টাকা পে-অর্ডার জমা দিতে হয়। কিন্তু দলিল লেখকরা কুতুবদিয়া সাবরেজিস্ট্রি অফিসের ঘুসের টাকাসহ দলিল গ্রহীতাদের কাছ থেকে প্রতি লাখে ১১ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন।

 

পরিচয় গোপন রেখে কুতুবদিয়ার দলিল লেখক আবছার প্রকাশ বড় আবছারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুতুবদিয়ার লেমশিখালী মৌজায় ২০ শতক জমি কবলা করতে হলে মৌজা মূল্য হিসাবে দলিলে কত টাকা লিখতে হবে এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, সাড়ে ৪ লাখ টাকা, লাখে কত টাকা খরচ দিতে হবে? জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, যদি দলিলের মূল্য ১০ লাখের উপরে যায়, সেক্ষেত্রে প্রতি লাখে সাড়ে ১০ হাজার থেকে শুরু করে, ১১ হাজার, সাড়ে ১১ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। তিনি আরও বলেন, যদি দলিলের মূল্য ১০ লাখের কম হয় তখন প্রতি লাখে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হবে। সেই হিসাবে ২০ শতক জায়গা কবলা করতে ৫৫-৬০ হাজার টাকা খরচ হবে বলে জানান তিনি। আবার দলিল যদি ২ বা ৩ লাখ টাকা মূল্যের হয় সেক্ষেত্রে প্রতি লাখে ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ হবে। আরেক দলিল লেখক তার নামও আবছার প্রকাশ ছোট আবছার, তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দলিল যদি করতে চান আপনার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে লাখে দুই হাজার টাকা করে দিয়েন, তা-ও অফিস সহকারী শমরেশের সঙ্গে কথা বলতে হবে। আমাদের কাছ থেকে প্রতি দলিলে সরকারি পে-অর্ডারের বাইরে প্রতি লাখে তিন হাজার টাকা করে দিতে হয় অফিসে।

 

সেলিম নামের এক দলিল গ্রহীতা বলেন, আমি ৫ জন দাতার কাছ থেকে ৮ শতক জমি রেজিস্ট্রি নিয়েছি। দলিলে জমির মৌজা মূল্য অনুযায়ী এক লাখ ৭৯ হাজার টাকা লেখা হয়েছে। এতে আমার কাছ থেকে ৩১ হাজার টাকা খরচ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে অফিস সহকারী শমরেশ কান্তি দে যুগান্তরকে বলেন, সরকারি খরচের বাইরে অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়া হয় না, সরকারি নিয়ম মেনে জমি রেজিস্ট্রি করা হয়। এ ব্যাপার জানতে সাবরেজিস্ট্রার পূর্বাশা বড়ুয়ার মোবাইলে একাধিকবার কল দেওয়া হয়েছে। তিনি কল না ধরায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।