ঢাকা ০৪:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অভিভাবকশূন্য দুদক: নয়া কমিশন গঠনে হয়নি কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০১:৩৯:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬ ২৫ বার শেয়ার হয়েছে
বঙ্গবাণী নিউজ ২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুই সপ্তাহের মাথায় পদত্যাগ করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেনসহ দুই কমিশনার। এরপর থেকেই নেতৃত্বশূন্য এই সংস্থা। এতে থমকে গেছে আওয়ামী লীগের ভিভিআইপি-ভিআইপিদের দুর্নীতির অনুসন্ধান-তদন্তসহ কয়েক হাজার মামলার কার্যক্রম।

 

এ অবস্থায় কবে-কীভাবে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে দুদকের নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার, সেই অপেক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। কারা হচ্ছেন দুদকের নতুন অভিভাবক, এ নিয়েও চলছে আলোচনা।

 

চেয়ারম্যান হিসেবে সাবেক বিচারক মোতাহের হোসেন, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমানের নাম নিয়ে কানাঘুষা আছে। তবে সংসদের প্রথম অধিবেশনে দুদকের নতুন অধ্যাদেশ বহাল এবং সার্চ কমিটি গঠনের পর এক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

 

তবে দুদকের নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার যে-ই হোক, এক্ষেত্রে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও পেশাগতভাবে সৎদের বিবেচনার ওপর জোর দিয়েছেন দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধান ও টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

 

 

তিনি বলেছেন, যাদেরকে নিয়োগ দেওয়া হবে তারা যেন সংশ্লিষ্ট খাতে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও পারদর্শী ব্যক্তি হন এবং অতীতে তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে তার প্রতিফলন ঘটেছে, প্রমাণ রাখতে পেরেছেন। দ্বিতীয়ত, সরকারের বিবেচনায় নিয়োজিত হচ্ছেন তা ঠিক আছে, কিন্তু সরকারের পা চাটা গোলাম হবেন না। সরকার দলের কথায় উঠবেন-বসবেন, সেটা হবে না। এ রকম মানসিকতা আছে, সৎ সাহস আছে এ রকম ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে হবে।

 

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলছেন, ক্ষমতাসীন সরকার ও রাজনৈতিক দলের চাপ থাকে দুদকের ওপর। এক্ষেত্রে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে নতুন কমিশনকে।

 

তবে, দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার প্রধানের নানামুখী উদ্যোগ ও পদক্ষেপ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ দুদক গঠনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা বলে মনে করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।

 

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) অত্যন্ত ইতিবাচক বিশেষ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি একা তো রাষ্ট্র-সরকার পরিচালনা করবেন না। যাদেরকে দিয়ে করবেন, তাদের মোটিভেট করতে হবে। আমি মনে করি, তার একটা বড় এজেন্ডা হচ্ছে নিজের দলকে সামলানো, আমলাতন্ত্রকে সামলানো। যাতে করে তার যে এজেন্ডা-প্রস্তাবনা-প্রত্যাশা; তিনি যে প্ল্যানের কথা বলেছিলেন সে প্ল্যানটা বাস্তবায়নের যেন সহায়ক পরিবেশ হয়, প্রতিরোধমূলক পরিবেশ যেন না হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

অভিভাবকশূন্য দুদক: নয়া কমিশন গঠনে হয়নি কমিটি

আপডেট সময় : ০১:৩৯:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুই সপ্তাহের মাথায় পদত্যাগ করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেনসহ দুই কমিশনার। এরপর থেকেই নেতৃত্বশূন্য এই সংস্থা। এতে থমকে গেছে আওয়ামী লীগের ভিভিআইপি-ভিআইপিদের দুর্নীতির অনুসন্ধান-তদন্তসহ কয়েক হাজার মামলার কার্যক্রম।

 

এ অবস্থায় কবে-কীভাবে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে দুদকের নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার, সেই অপেক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। কারা হচ্ছেন দুদকের নতুন অভিভাবক, এ নিয়েও চলছে আলোচনা।

 

চেয়ারম্যান হিসেবে সাবেক বিচারক মোতাহের হোসেন, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমানের নাম নিয়ে কানাঘুষা আছে। তবে সংসদের প্রথম অধিবেশনে দুদকের নতুন অধ্যাদেশ বহাল এবং সার্চ কমিটি গঠনের পর এক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

 

তবে দুদকের নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার যে-ই হোক, এক্ষেত্রে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও পেশাগতভাবে সৎদের বিবেচনার ওপর জোর দিয়েছেন দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধান ও টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

 

 

তিনি বলেছেন, যাদেরকে নিয়োগ দেওয়া হবে তারা যেন সংশ্লিষ্ট খাতে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও পারদর্শী ব্যক্তি হন এবং অতীতে তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে তার প্রতিফলন ঘটেছে, প্রমাণ রাখতে পেরেছেন। দ্বিতীয়ত, সরকারের বিবেচনায় নিয়োজিত হচ্ছেন তা ঠিক আছে, কিন্তু সরকারের পা চাটা গোলাম হবেন না। সরকার দলের কথায় উঠবেন-বসবেন, সেটা হবে না। এ রকম মানসিকতা আছে, সৎ সাহস আছে এ রকম ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে হবে।

 

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলছেন, ক্ষমতাসীন সরকার ও রাজনৈতিক দলের চাপ থাকে দুদকের ওপর। এক্ষেত্রে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে নতুন কমিশনকে।

 

তবে, দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার প্রধানের নানামুখী উদ্যোগ ও পদক্ষেপ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ দুদক গঠনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা বলে মনে করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।

 

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) অত্যন্ত ইতিবাচক বিশেষ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি একা তো রাষ্ট্র-সরকার পরিচালনা করবেন না। যাদেরকে দিয়ে করবেন, তাদের মোটিভেট করতে হবে। আমি মনে করি, তার একটা বড় এজেন্ডা হচ্ছে নিজের দলকে সামলানো, আমলাতন্ত্রকে সামলানো। যাতে করে তার যে এজেন্ডা-প্রস্তাবনা-প্রত্যাশা; তিনি যে প্ল্যানের কথা বলেছিলেন সে প্ল্যানটা বাস্তবায়নের যেন সহায়ক পরিবেশ হয়, প্রতিরোধমূলক পরিবেশ যেন না হয়।